আর্থিক কারণে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়
Islamic Social Service Foundation (ISSF) পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র, অসহায়, এতিম ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে। আবেদন, নথি জমা ও অগ্রগতি — সবকিছু এই অনলাইন পোর্টালে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
আবেদন জমা দেওয়া মানেই সহায়তা অনুমোদন নয়। যাচাই, প্রকৃত প্রয়োজন ও উপলব্ধ তহবিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়।
শুধু টাকা নয় — যাচাই, স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতার ব্যবস্থা
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু এককালীন আর্থিক সাহায্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক শিক্ষার্থীকে সঠিক ধরনের সহায়তা দেওয়া, প্রতিটি টাকার হিসাব রাখা এবং শিক্ষার্থী যেন নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করা।
প্রতিটি আবেদন আমাদের সদস্যরা যাচাই করেন — প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে, বিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে। কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য বা ছবি কোথাও প্রকাশ করা হয় না।
যাচাই
স্কুলের নথি, পরিবারের প্রকৃত অবস্থা ও শিক্ষা ব্যয় — আট ধাপে যাচাই।
স্বচ্ছতা
টাকা সরাসরি স্কুল বা সরবরাহকারীকে; প্রতিটি লেনদেনের রসিদ ও রেফারেন্স নম্বর।
ধারাবাহিকতা
ত্রৈমাসিক অগ্রগতি পর্যালোচনা — পড়া বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করা।
কে আবেদন করতে পারবে
নিচের শর্তগুলো পূরণ করলে আবেদন করতে পারবেন। শর্ত পূরণ করা মানেই অনুমোদন নয়।
শিক্ষাগত
- ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণিে অধ্যয়নরত
- পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত স্কুল বা মাদ্রাসায় পড়ছে
- ভর্তি চলমান বা নিশ্চিত
আর্থিক
- পরিবারের মাসিক আয় সাধারণত ₹১৫,০০০-এর কম
- শিক্ষার খরচ বহনে প্রকৃত অসামর্থ্য
- ঋণ, অসুস্থতা বা একক উপার্জনকারীর মতো পরিস্থিতি
অগ্রাধিকার
- এতিম, একক অভিভাবক, বিধবা মা
- প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বা অভিভাবক
- পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা
কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়
যাচাইকৃত প্রয়োজন ও উপলব্ধ তহবিল অনুযায়ী সম্পূর্ণ বা আংশিক সহায়তা।
শিক্ষা উপকরণ
বই, পাঠ্যপুস্তক, খাতা, কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্স, স্কুল ব্যাগ।
ফি সহায়তা
ভর্তি ফি, স্কুল ফি, পরীক্ষার ফি (সরাসরি বিদ্যালয়ে প্রদান)।
ইউনিফর্ম
স্কুল ইউনিফর্ম ও জুতা (সামগ্রী হিসেবে বা সরবরাহকারীকে সরাসরি)।
আংশিক ও জরুরি সহায়তা
নির্দিষ্ট খাতে আংশিক সহায়তা এবং হঠাৎ সংকটে সীমিত জরুরি সহায়তা।
আবেদনের সময় যা লাগবে
শুধু তিনটি নথি আবশ্যিক। বাকিগুলো থাকলে সুবিধা হয়, না থাকলে কারণ লিখলেই চলবে।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি (আবশ্যিক)
- স্কুলের পরিচয়পত্র / ভর্তির প্রমাণ (আবশ্যিক)
- শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের স্বাক্ষর (আবশ্যিক)
- অপশনাল: ফলাফল, জন্মসনদ, আয়ের প্রমাণ, ফি-র রসিদ, এতিম/বিশেষ পরিস্থিতির প্রমাণ
ফাইল জমা দেওয়ার নিয়ম
- PDF, JPG বা PNG ফাইল গ্রহণযোগ্য
- প্রতিটি ফাইল সর্বোচ্চ ৫ MB
- মোবাইলে ছবি তুলে আপলোড করা যাবে
- জমা দেওয়ার আগে ছবি বদলানো যাবে
- ফাইলগুলো গোপনীয়ভাবে সংরক্ষিত হয় — পাবলিক লিংক তৈরি হয় না
ডাউনলোড ও প্রিন্ট
অনলাইনে আবেদন করতে অসুবিধা হলে নিচের নির্দেশিকা ও ফাঁকা ফর্ম ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ ও সময়সীমা পোর্টালে দেখুন। ফোন থেকে ডাউনলোড না হলে ব্রাউজারে খুলে “Print → Save as PDF” ব্যবহার করুন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
আবেদন করলেই কি টাকা পাওয়া যাবে?
না। আবেদন যাচাই করা হয় এবং প্রকৃত প্রয়োজন ও উপলব্ধ তহবিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। সম্পূর্ণ, আংশিক বা কোনো সহায়তা — তিনটিই সম্ভব।
আবেদনের জন্য কি টাকা লাগে?
না, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ISSF ফর্ম পূরণের জন্য কোনো টাকা নেয় না। তবে কোনো অনলাইন সেন্টার বা সাইবার ক্যাফে থেকে আবেদন করলে তারা নিজেদের সার্ভিস চার্জ নিতে পারে — সেটি ISSF-এর টাকা নয়। কেউ টাকা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান।
আমার সন্তানের তথ্য কি প্রকাশ্যে আসবে?
না। নাম, ঠিকানা, ছবি বা পারিবারিক তথ্য কোথাও প্রকাশ করা হয় না। দাতাদের রিপোর্টে শুধু সমষ্টিগত সংখ্যা থাকে।
ফোন থেকে আবেদন করা যাবে?
হ্যাঁ, মোবাইল-ফার্স্ট ভাবে তৈরি। ইন্টারনেট বা ফোনে সমস্যা হলে আমাদের নম্বরে যোগাযোগ করুন, আমরা সহায়তা করব।
আবেদনের অবস্থা কীভাবে জানব?
আবেদনের অবস্থা পাতায় আবেদন নম্বর, জন্মতারিখ ও অভিভাবকের মোবাইল নম্বর দিয়ে দেখতে পারবেন।
থমকে থাকা অবস্থায় টাকা দেওয়া হয় কি?
না। টাকা সরাসরি বিদ্যালয় বা সরবরাহকারীকে দেওয়া হয়, রসিদ ও রেফারেন্স নম্বর সহ। অভিভাবকের হাতে নগদ দেওয়া হয় না।
সাহায্য দরকার?
ফর্ম পূরণে সমস্যা, নথি জমা বা আবেদনের অবস্থা — যেকোনো বিষয়ে যোগাযোগ করুন।
- — (অফিসিয়াল)
- —
- —
- —